যুগে যুগে মধু
যুগে যুগে মধু

প্রায় যুগ যুগ ধরে মানুষ বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্ন ভাবে  ব্যবহার করে আসছে মধু। মধু যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তেমনি এর দ্বারা নানা ধরনের ওষুধও তৈরী করা হয়। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের মধু পাওয়া যায় যা তৈরীতে নানা প্রজাতির মৌমাছি প্রয়োজন। দিন যত  বেড়ে চলেছে মধুর উৎপাদনে এবং সরবরাহে নানা ধরনের প্রক্রিয়ার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের মধুর জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।

NZ Manuka Honey: 10 Fascinating Facts about Manuka Honey

১.মানুকা মধু- পৃথিবী বিখ্যাত “মানুকা হানি” শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ড শহরে পাওয়া যায়। এই মধু আসে লেপ্টোস্পারাম স্কোপেরিয়াম গাছ থেকে।এই গাছ বৃদ্ধির জন্য শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত একটি নির্দ্দিষ্ট ধরণের জলবায়ু প্রয়োজন।

3500 year-old honeypot: Oldest direct evidenc | EurekAlert!

২. মিশরীয় মধু- মৌমাছি মিশরে রাজকীয়তার সাথে যুক্ত ছিল, প্রকৃতপক্ষে ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌমাছি নিম্ন মিশরের রাজার প্রতীক ছিল। এছাড়া মিশরে মমি গুলোকে কখনো কখনো  মধু দিয়ে সুগন্ধি করা হতো এবং প্রায়শই সারকোফাগিকে মোম দিয়ে সিল করা হত।মৃতদের জন্য উপহার সরূপ মধুর কিছু পাত্র সমাধিতে রেখে দেয়া হত যাতে পরবর্তী জীবনে তাদের কিছু খেতে দেয়া হয়।(ছবিতে দেওয়া) পৃথবীর সবচেয়ে পুরাতন মধুও মিশরে পাওয়া গেছে। তা ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০০ অব্দের।

Honey Hunting In Nepal

৩. নেপালের ম্যাড হানি- নেপালে উদ্ভূতকৃত মধুতে রয়েছে হ্যালুসিনেশন উদ্রেগকারী পদার্থ যা প্রকৃতি প্রদত্ত। এই মধু হিমালয়ের প্রত্যন্ত জঙ্গলে পাওয়া যায় যা সম্পূর্ণ বিশ্বে ম্যাড হানি নামেও পরিচিত। এই মধু একটি শক্তিশালী হ্যালুসিনোজেন এবং বিনোদনমূলক ওষুধ হিসেবেও পরিচিত।

৪. এলভিস হানি- পৃথিবীর সবচেয়ে দামীর একটি  মধু হচ্ছে “এলভিস মধু” যা উৎপাদিত হয় তুর্কিতে।এই মধু মৌমাছি পালনকারীদের দ্বারা স্থাপন করা আমবাতে তৈরী হয় না। এটি একটি গুহার গভীরে তৈরী করা হয় যেখানে মৌমাছিরা উত্তর পূর্ব তুরস্কের গোলাকার দেয়ালে একটি উচ্চমানের খনিজ মধু তৈরী করে। এটি সংগ্রহণের জন্য পোশাদার পর্বতারোহীদের সহায়তা প্রয়োজন হয়।

The Native Bees of Tanzania — Maasai Honey

৫. রয়্যাল সিডর হানি- রয়্যাল সিডর মধু হলো মনোফ্লোরাল মধু যা শুধুমাত্র ইয়েমেনের সিডর গাছের অমৃত থেকে তৈরী করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে রয়্যাল সিডর গুহার মধুর  মত গাঢ় মধুতে উচ্চ এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বার্ধক্যের লক্ষণগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

Ikaria Island Pictures | Photo Gallery of Ikaria Island - High-Quality  Collection

৬. ইকারিয়ান মধু- ইজিয়ান সাগরের একটি গ্রীক দ্বীপ ইকারিয়াতে মৌমাছিদের দ্বারা উৎপাদিত হয় এই মধু। ইকারিয়া হলো একটি পার্বত্য দ্বীপ, যার আয়তন ৯৯ বর্গ মাইল। এই দ্বীপে পাওয়া অনন্য ভৌগলিক এবং স্থানিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এই মধু পৃথিবীতে উচ্চমানের মধু হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ইকারিয়ার “প্রাচীণ নিরাময় দ্বীপ” থেকে পাওয়া এই মধু পাইন গাছ , ভেষজ এবং দ্বীপের অন্যান্য উদ্ভিত থেকে সংগ্রহিত হয়। এই মধু দেখতে গাঢ় বাদামী রঙের। এটির একটি অনন্য সমৃদ্ধ স্বাদ রয়েছে যা এই মধুকে অন্যান্য মধু থেকে আলাদা করে‌।

Centauri Honey Classic | Centauri Honey | By Ahmet Eren Cakir

৭. তুরস্কের সেন্টোরি  হানি- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে সেন্টোরি হানি(তুরস্কের) সবচেয়ে দামী মধুর বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে। এই মধু দেখতে মনে হয় যেন দূরের দেশ থেকে আসা যাদুকরী অমৃত। এই গুহার মধুটি  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫০০ মিটার উপরে একটা গুহা থেকে খনন করা হয়েছে যা যেকোন মানুষের বাসস্থান এবং অন্য কোন মৌমাছির উপনিবেশ থেকে অনেক দূরে। মধুতে রয়েছে উচ্চ ওষুধি গুণ কারণ এতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে।মৌমাছিদের খাওয়ানো গুহার চারপাশে লাগানো ঔষধি গাছ থেকে এগুলো উৎপন্ন হয়। অন্যান্য মধু বছরে ২/৩ বার উৎপাদন করা হলেও এই মধু বছরে কেবল একবারই উৎপাদন করা সম্ভব।


মৌমাছি পৃথিবীর শীর্ষ পরাগায়নকারী। উদ্ভিদের সাথে তাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তাদের ফুল চিনতে এবং পরাগ সংগ্রহের জন্য পুরোপুরি অভিযোজিত করে তোলে, এমনকি মৌমাছির জিহ্বা তারা কোন ফুল থেকে মধু আহরণ করবে তার সাথেও খাপ খায়। মধুর জিআই মান চিনির চেয়ে কম, যার অর্থ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। মধুতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট গুলো এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য দায়ী, এর সাথে মধুতে রয়েছে এ্যান্টিফাঙ্গাল এবং এ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল শক্তি। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে মধু খুবই উপকারি এবং প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My Cart (0 items)

No products in the cart.