Building Healthy Bangladesh

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ঘরোয়া পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ঘরোয়া পদক্ষেপ
July 31, 2019 Brishty Parvin

ডেঙ্গু/ ডেঙ্গু জ্বর কিঃ

‘ডেঙ্গু’ শব্দটি কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি, তবে একটি মত হল এটি এসেছে Swahili শব্দবন্ধ কা-ডিঙ্গা পেপো, যার অর্থ দুষ্টু আত্মার কারণে ঘটিত রোগ। ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।

ডেঙ্গু জ্বরের কারণঃ

এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণে এই রোগ সৃষ্টি হয়। কয়েক প্রজাতির এডিস মশা (স্ত্রী মশা) ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক। যেগুলোর মধ্যে এডিস ইজিপ্টি মশা প্রধানতম। ভাইরাসটির পাঁচটি প্রকার পাওয়া গেছে। যখন একটা ভাইরাস বহন এডিস মশা একজন ব্যক্তিকে কামড়ায়, ভাইরাসটা মশার লালার সঙ্গে চামড়ায় প্রবেশ করে। এটি রক্তের শ্বেতকণিকাতে প্রবেশ করে কোষের ভিতর প্রজনন করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

উপসর্গঃ

এডিস মশার কামড়ের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশী ও গাটে ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত চক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। রোগটি মারাত্মক আকার নিলে কখনো কখনো ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়! এক্সট্রিম ক্ষেত্রে রোগী মারা যেতে পারে!

সংক্রমণের ঝুকিপূর্ণ ব্যক্তিঃ

শিশু ও ছোট বাচ্চাদের মধ্যে সাধারণত এ রোগের প্রাবল্য বেশি দেখা যায় এবং অন্যান্য সংক্রমণের তুলনায় এটি বেশি সাধারণ!  এতে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বিপদ বেশি। যাদের ডায়াবেটিস বা অ্যাজমা আছে তাদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিঃ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহ বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন মারাত্নক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে! ফিলিপাইনে ডেঙ্গু তে ৪৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মিডিয়ায় জানা গেছে। ভারতে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এই মুহুর্তে (জুলাই’১৯) বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রায় মহামারী আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত স্থান হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় ১৭ জন আক্রান্ত হচ্ছে।মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০০০ এর বেশি।

ডেঙ্গুর সেরোটাইপ  ৪ টি। Den-1,2,3,4. আগে ১,২ দিয়ে আক্রমণ করতো। তাই এর লক্ষন সবার জানা ছিল। কিন্তু এবার হয়তো ৩,৪ দিয়ে আক্রমণ করছে, যেটা আগের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। তাই কোনো লক্ষন ই বুঝা যাচ্ছে না। চোখের পলকে রোগী শকে চলে যাচ্ছে, মারা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ডেঙ্গু যতটা শক্তিশালী আগামীবছর আরও শক্তিশালী হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ঘরোয়া পদক্ষেপঃ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে! এক্ষেত্রে কার্যকরী পণ্যগুলো হলোঃ

মধুঃ

প্রতিদিন সেবনে ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

কালিজিরা তেলঃ

কালিজিরা বা কালিজিরা তেলকে বলে সকল রোগের মহৌষধ! তবে প্রতিদিন ৩ চা চামচের বেশি খাওয়া ঠিক নয়! আগে কখনো না খেয়ে থাকলে আধা চামচ করে শরীরে এডজাস্ট করে নিতে পারেন! যে কোনো পেশেন্ট ও গর্ভবতী মহিলা সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন

নিমের তেলঃ

বাড়িতে মশার  উপদ্রব থেকে বাঁচতে পানির সাথে নিমের তেল মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।

এছাড়া ১০-১৫ ফোটা নিম তেল আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে লাগালেও মশারা আর ধারে কাছে ঘেঁষবে না।

নারকেল তেলঃ

নারকেল তেল গায়ে লাগালে মশারা কাছে ঘেষে না ।

হলুদের গুড়োঃ

হলুদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন দুধ বা পানির সাথে হলুদের গুঁড়ো বা রস মিশিয়ে খাওয়া অভ্যাস করলে অনেকটাই সুস্থ থাকা সম্ভব। হলুদ সাধারনত বিভিন্ন রান্নায় পরিমাণমতো ব্যবহার করা হয়! তা ছাড়া সরাসরি সেবন করা যায়, তবে অবশ্যই মাত্রাতিরিক্ত নয়! পেশেন্ট, বিভিন্ন ওষুধ সেবনকারী ও গর্ভবতী মহিলারা সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

দুধ,কলা, ডিমঃ

এগুলোকে সুষম খাদ্য বলা হয়! প্রতিদিন সেবনে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে! অনেকের এসকল খাদ্যে এলার্জি থাকে অথবা বিভিন্ন রোগ (যেমনঃ কিডনি রোগ, ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ইত্যাদি) এ দুধ একটি নিষিদ্ধ খাদ্য।

পেঁপে এবং পেঁপে পাতা:

পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে পেঁপে পাতার রস তা দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্ত প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন।

  

ড্রাগন ফলঃ

ড্রাগন ফলে আছে প্রচুর এন্টিওক্সিডেন্ট! এটি ব্লাডের সাদা সেল (WBC) বাড়াতে সাহায্য করে।

মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজঃ

মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন এ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

লেবুঃ

লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়।

দেশী মাছঃ

দেশি বিভিন্ন মাছ (যেমনঃ কই, শিং, মাগুর, শোল, বাইন, ছোট মাছ, পাঁচ-মিশালী মাছ ইত্যাদি) শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে!

 

কোথায় পাবেনঃ

উপরোক্ত সকল পণ্য ১৫% ডিসকাউন্টে (দুধ, কলা, ডিম, কুমড়ার বীজ ও মাছ ব্যতীত) পেতে ভিজিট করুন www.parmeeda.com

কুপন কোডঃ     fightdengue

পণ্যের অর্ডার সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য পেতে কল করুন 01970088418 01972509549

Comments (0)

Leave a reply

PARMEEDA সম্পর্কে অভিমত দিন!