Building Healthy Bangladesh

খেজুরের গুড়ের আদ্যপান্ত; ভাল আর মন্দ

খেজুরের গুড়ের আদ্যপান্ত; ভাল আর মন্দ
November 26, 2018 Parmeeda Admin

অগ্রহায়ন মাস মুলত ফসল ঘরে তোলার সময়, বাংলায় তখন নবান্ন। এই নভেম্বরের মাঝামাঝি কিন্তু ধান কাটা শুরু হয়ে যায়, আর শীত আসতে আসতে কাটা ধানের সাথে পিঠা পার্বন, বাংগালীর উতসব মুলত এই ফসল কাটা ঘিরেই। আর পিঠা পার্বনের কথা মাথায় আসলেই সাথে সাথে খেজুরের গুরের কথা মাথায় চলে আসবে।

খেজুরের গুড় কি?

খেজুরের রস জাল দিয়ে শুকিয়ে জলহীন করলে খেজুরের গুড় পাওয়া যায়, এটি নিজেই মিস্টান্ন এবং অন্যান্য মিস্টি জাতীয় খাবারে পরিপুরক হিসেবে ব্যবহার হয় বা পিঠা পুলি প্রস্তুতিতে কাচামাল হিসেবেও ব্যবহার হয়।

মুলত দানাদার পাটালি বা একটু তরল দুই ধরনের খেজুরের গুড় ই আমাদের কাছে জনপ্রিয়। তরল গুড়কে অনেক সময় লালী গুড় বা ঝোলা গুড় ও বলে।

খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ ধাপে ধাপে

যারা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন সাধারনত তাদের গাছী বলা হয়ে থাকে। সারাবাছর খেজুর গাছের তেমন যত্ন আত্নি করা হয়না, তবে শীতের আগমনীর শুরু থেকেই তোরজোড় শুরু হয়ে যায় কিন্তু। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকেই গাছ পরিস্কারের কাজ শুরু করে দেন গাছীরা। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন গাছ কাটতে হয় অল্প করে যেন নিঃসরণ শুরু হয়। এরপর কাটা অংশের যেখানে রস নিঃসরণ শুরু হয়, সেখানে একটি ইউ আকৃতির চিকন বাঁশের কাঠির আধা ইঞ্চি পরিমাণ গাছে ঢুকিয়ে দিতে হয়। ইউ আকৃতির কাঠির মধ্য দিয়ে রস ফোঁটায় ফোঁটায় গাছের ঝুলন্ত হাড়িতে জমতে থাকে।

রস জ্বাল দেয়ার পর পাত্রে ঢালা হচ্ছে

তবে গাছ একবার কাটলে তিন থেকে চারদিন রস সংগ্রহ কর উচিত এবং পরবর্তী দুই থেকে তিনদিন গাছ শুকাতে হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে গাছ দীর্ঘস্থায়ী হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি গাছে নভেম্বর মাস হতে মধ্য মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে দৈনিক ১০ থেকে ২০ লিটার রস পাওয়া যায়।

খেজুড়ের গুড় প্রস্তুত করন

পদ্ধতিটা অনেক সরল কিন্তু দক্ষতা লাগবে। সাধারনত বড় হাড়িতে রস দীর্ঘ সময় জ্বাল দিতে হয়, প্রায় ৪-৫ ঘন্টা জ্বাল দেবার পর খেজুরের রস ঘন হয়ে দানাদারে পরিনত হয়। এরপর মাটি বা অন্যান্য পাত্রে ঢেলে শুকাতে দেয়া হয়। শুকাতে দেয়ার সময় বিভিন্ন আকৃতির পাত্রে দেয়া হয় যেন সেই পাত্রের আকার ধারন করে। অনেক সময় ডিব্বা আকৃতির তবে বেশীরভাগ সময় চৌকন আকারেই খেজুরের গুড় পাওয়া যায়। শুকিয়ে গেলে এটি শক্ত আকার ধারন করে। তখন এটি বিক্রয় বা খাবারের উপযুক্ত হয়।

কোন এলাকায় হয়

সবচেয়ে বেশী খেজুরের গাছ বা খেজুরের গুড় হয় আমাদের দেশে রাজশাহীর বাঘা, নাটোর, যশোর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ এই অঞ্চলে, এছাড়া ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ ও খেজুরের গুড়ের জন্য প্রসিদ্ধ।

তাহলে কিনতে গেলাম?

একটু দাঁড়ান, একটু কিন্তু আছে। ঐযে বললাম একটু দক্ষতার প্রয়োজন জ্বাল দেয়ার সময়, খেজুরের গুড় বেশীরভাগ সময় দানা বাধেনা, বিশেষ স্কিল লাগে, ত দানা না বাধার কারনে অনেকে অনেক কিছু দেয় যার কিছু পারমিটেড (যেমন চিনি- কিন্তু চিনি ব্যবহারে আসল স্বাদ কিন্তু আর রইলনা, ভেজাল ঢুকে গেল), আবার কিছু নন-পারমিটেড, যেমন চুনা।

আবার লাল গুড়ের বিশেষ চাহিদা থাকার কারনে, আসল গুড় কিছুটা কালচে হবে, বেশীরভাগ সময় এখানে এনামেল পেইন্ট ব্যবহার করা হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আবার একটু স্বচ্ছ বা চকচকে ভাব আনার জন্য এককাঠি বাড়িয়ে অনেকে ফিটকারী ব্যবহার করে। আছে হাইড্রোজ এর ব্যবহার।

Khejurer gur sample failed to pass Laboratory Test Result

খেজুরের গুড়ের চাহিদা ভাল থাকার কারনে ভেজালের কিন্তু কোন অভাব নেই, তাই দেখে শুনে কেনাই ভাল। আবার বেশীরভাগ সময় দেখে শুনে কিনলেও ভেজাল ধরার কোন উপায় নাই। তখন ল্যাবরেটরি টেস্ট টা গুরুত্বপূর্ন হয়ে যায়।

 

 

 

 

খেজুরের গুড়ের উপকারিতা

খেজুরের গুড়ে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। যাঁরা রক্তস্বল্পতার ভুগছেন, তাঁরা খেজুরের গুড় খেলে উপকার পাবেন। হাড় ও বাতের ব্যথা কমাতে খেজুরের গুড় বেশ উপকারী। খেজুরের গুড় শরীরের ভেতর থেকে চুল ও ত্বকের উজ্জ্বল বাড়াতে সাহায্য করে।

পারমিদা’র খেজুরের গুড়

এখন একটু নিজেদের ঢোল পিটাই, আমরা মারজেন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ৩ বছর ধরে কাজ করছি রাজশাহী বাঘাতে, যেখানে নিজস্ব তত্তাবধানে নিজস্ব গাছী দিয়ে গুড় উতপাদন করা হয়। প্রতিটা সিজনে আমরা ল্যাবরেটরি টেস্ট ও করে থাকি যেন কোন ধরনের ভেজাল না থাকে বা কোন পর্যায়ে কোন ধরনের ফরেন ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার না করা হয়।

পারমিদা থেকে খেজুড়ের গুর কিনতে অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন এই লিংকেঃ https://bit.ly/2TNyoz7

আরো তথ্য জানতে ভিজিট করুনঃ www.parmeeda.com

অথবা ফোন করতে পারেনঃ ০১৯৭২ ৫০৯ ৫৪৯ এই নাম্বারে।

 

Comments (0)

Leave a reply